EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষায় কাজ করছে সরকার: মাহ্দী আমিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষায় কাজ করছে সরকার: মাহ্দী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, মর্যাদা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি ও আইনি কাঠামো বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ‘সাইবারফ্রেমস ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি নীতি ও আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা দেবে এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করবে। উন্মুক্ত পরামর্শ ও সংলাপের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করলে সাইবার নিরাপত্তার মূল উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এতে প্রত্যেক নাগরিক আইনের চোখে সমতা, ন্যায্যতা ও সুবিচার পাবেন।

সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সাইবার জগৎ সরাসরি জড়িত। অথচ প্রতিনিয়ত মানুষ অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক অনিয়ম, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হচ্ছেন। অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও চরিত্রহননের পাশাপাশি নারীদের হয়রানি এবং অনিরাপদ করার ক্ষেত্রেও সাইবার মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে।

ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইসে ইন্টারনেটের অপব্যবহার, সংবেদনশীল তথ্য চুরি ও হ্যাকিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত অপব্যবহার বন্ধ করে বিশেষ করে নারী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য সাইবার জগৎ নিরাপদ করা জরুরি।

প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব কাজের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিকারের উপায় চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের ভয় না পেয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিবাদ জানানো এবং রাষ্ট্রের আইনি সহায়তা নেওয়া উচিত। জয়-পরাজয়ের চেয়ে সমাজে সঠিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই এ প্রতিযোগিতার বড় সাফল্য। এ ধরনের ইতিবাচক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগে সরকার সব সময় পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। একসময় দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সে সময় বিএনপি সরকার ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষার বিস্তার এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সেই চিন্তার ভিত্তিতে প্রণীত নীতিমালার আলোকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে ধারণ করে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের স্নাতকদের দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্যও উদ্বুদ্ধ করা হবে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সংকটময় সময়ে তাঁদের সাহসী ও অদম্য ভূমিকা অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করেছিল এবং দেশের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পেছনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। সরকার এ অবদান আন্তরিকভাবে স্মরণ করে।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও তরুণদের মেধা বিকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু সনদ দেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কয়েকটি পেশায় সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে না। শিক্ষার্থীরা যে বিষয়েই পড়াশোনা করুক, পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শিল্প, সাহিত্য, সংগীত ও পরিবেশনশিল্পে তরুণদের আগ্রহ ও দক্ষতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রতিভা বিকাশের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তারুণ্যের উদ্ভাবনী মেধা ও আধুনিক চিন্তাই দেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার ভিত্তি গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম. এ. কাশেম, সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন