EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে: মাহ্দী আমিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে: মাহ্দী আমিন
অ অ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও মজবুত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন মানুষে মানুষে যোগাযোগের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) যৌথভাবে ‘পাওয়ারিং বাংলাদেশ’স নেক্সট গ্রোথ চ্যাপ্টার: আ পাথওয়ে টু এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনার শেষে তিনি ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬’-এর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষা, পর্যটন ও মানুষে মানুষে নিবিড় যোগাযোগের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষা, পেশাগত কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তারা সেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। তারা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক জীবনধারার সংযোগ তৈরি করছেন।

বর্তমানে ৫০টির বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা, বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকারী জনম্যান্ডেটপ্রাপ্ত গণতান্ত্রিক সরকার মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকার নীতিগত ধারাবাহিকতা ও অনুকূল পরিবেশ বজায় রেখেছে বলেও জানান তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের তালিকা আরও সম্প্রসারিত ও বৈচিত্র্যময় করতে চায়। তৈরি পোশাক খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আমেরিকানদের পরা প্রতিটি পোশাকের পেছনে লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের শ্রম, ত্যাগ, সহনশীলতা ও সাফল্যের গল্প রয়েছে। এটি দুই দেশের জন্যই লাভজনক সম্পর্ক।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার কারণে মার্কিন ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছে। তবে তৈরি পোশাকের বাইরেও চামড়া, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কৃষিপণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একইভাবে গম, সয়াবিন ও স্ক্র্যাপ মেটালের মতো মার্কিন পণ্য আমদানিতেও দুই দেশের পারস্পরিক চাহিদা ও সম্ভাবনা বাড়ছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সফল অংশীদারত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, শেভরনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং এক্সিলারেট এনার্জির মাধ্যমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) পরিচালনায় সফল অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা আরও ব্যাপক পরিসরে গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান করা। এতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মনীতি সংস্কার ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আরও উৎসাহিত হবেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি ও সেবাদানকারী মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার মনে করে, দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের জন্য অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে হবে। সেই উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে মাস্টারকার্ড ও ভিসার মতো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, কোনো একটি খাতে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে দিতে চায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং বৃত্তির পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়েও গঠনমূলক আলোচনা চলছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উজ্জ্বল করবেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত আন্তরিক ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের টেকসই অংশীদারত্ব আরও বিকশিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নতুন সরকার আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ভূমিকার প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ আরও বেশি মার্কিন কোম্পানিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও মার্কিন বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে মাহ্দী আমিন আশা প্রকাশ করেন, ইউএস ট্রেড শোর এই আয়োজন দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস শু শিয়াং। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাশরুর রিয়াজ সেমিনার সঞ্চালনা করেন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন জিই ভার্নোভার এশিয়া অঞ্চলের কন্ট্রাকচুয়াল সার্ভিসেসের মহাব্যবস্থাপক সারতাজ ভূঁইয়া, এক্সিলারেট এনার্জির কান্ট্রি ম্যানেজার মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলি হোসেন এবং বুয়েটের প্রকৌশল অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

আরও পড়ুন