নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি
‘দেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে'
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। ছবি: সংগৃহীত
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনকে প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলন নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রমিক আন্দোলন ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
দিপু ভূঁইয়া বলেন, প্রতি তিন বছর পরপর সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে। এবারও নির্ধারিত সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এর প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে থাকে। তাঁর অভিযোগ, দেশের গার্মেন্টসশিল্প অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ এ শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে।
নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলায় প্রায় ৫০০টি গার্মেন্টস কারখানা সচল রয়েছে। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি কারখানায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁর দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৯০ শতাংশই পোশাকশ্রমিক নন।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিসিক ও ইপিজেড রয়েছে। রূপগঞ্জকে রেড অ্যালার্টে রাখা হলেও সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারে কোনো সমস্যা হয়নি। আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট স্থানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা মূল সড়কে যেতে পারেন।
দিপু ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। এ সময় শ্রমিকদের একটি অংশ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একমত না হওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। গত ১৭ বছর গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের মানুষ এখন সচেতন এবং বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গার্মেন্টসশিল্পের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সম্পর্ক তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। এসব শ্রমিককে ঘিরে বাড়িভাড়া, মুদি দোকানসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে। ফলে শিল্পটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু মালিক বা শ্রমিক নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে না দিয়ে দেশকে সম্মানের জায়গায় নিতে ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের সময় ও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
