EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নিলেন পরীমনি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নিলেন পরীমনি

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে আদালতে আসা-যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনি ও তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় একাধিক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উঠেছে পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কালো পোশাক পরা কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমনি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে আদালতের ভেতরে নিয়ে যান। সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও উঠেছে।

লিফটে ওঠার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন পরীমনি। পরে রবিউল তাঁর ফোনটি ফিরিয়ে নেন। এ ছাড়া জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আশিকুজ্জামান বলেন, একটি মামলার আসামি এতসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে প্রবেশ করেছেন। তাঁরা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন এবং আঘাত করেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

জামিন পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও পরীমনিকে ঘিরে রাখেন তাঁর নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে আবারও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কায় আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সুজনের ভাই বলেন, তাঁরা আদালতে একটি কাজে এসেছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীরা ধাক্কা দিলে তাঁর ভাই আহত হন।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে গাড়িতে ওঠার আগে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের দিকে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরীমনির বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে গালিগালাজ করার অভিযোগও করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে গাড়িতে করে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামির জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। শুনানি শেষে আদালত পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তিনি।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন।

২০২৩ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পরিদর্শক মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

ওই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত দুই আসামিকে ২৫ জুন হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। পরে নির্ধারিত দিনে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তাঁরা।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জুনাইদ।

আরও পড়ুন