ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শাখায় চেক জালিয়াতি, ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির রাজধানীর দনিয়া শাখায় চেক জালিয়াতির মাধ্যমে এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকটির চার কর্মকর্তাসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে নার্গিস আক্তার নামে ওই নারী মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং শাখা ব্যবস্থাপক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. গোলাম কিবরিয়া।
অন্য আসামিরা হলেন গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ব্যবস্থাপক কাজী এনামুল কবির এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শওকত হাসান।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখায় তাঁর ব্যক্তিগত হিসাবে সম্পত্তি ও গাড়ি বিক্রির টাকা এবং বাড়ি ও দোকানভাড়াসহ মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা জমা ছিল।
তিনি স্বাক্ষর করতে পারলেও লেখাপড়া জানেন না। এ কারণে ব্যাংক হিসাব খোলা, টাকা জমা দেওয়া এবং চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই চেক ও জমার রসিদের প্রয়োজনীয় তথ্য লিখে দিতেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বরও ব্যাংক কর্মকর্তারা তাঁকে হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে দেন।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাঁর চেক বইয়ের একটি চেক এবং ডিপিএস খোলার কথা বলে লেখাযুক্ত কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়।
এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে গিয়ে আরও ছয় লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ সময় হিসাবে কত টাকা অবশিষ্ট রয়েছে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তারা পরে জানানো হবে বলে জানান।
মামলার আরজিতে বলা হয়, ৪ অক্টোবর ব্যাংকে গিয়ে হিসাবের স্থিতি জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, হিসাবে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা।
বাকি টাকা কোথায় গেছে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর একটি চেকের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডকে ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ জন্য তিনি পজিটিভ পে ইনস্ট্রাকশন (পিপিআই) ফরমেও স্বাক্ষর করেছিলেন বলে দাবি করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।
তবে বাদীর দাবি, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাংকে যাননি। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো চেক ইস্যু করেননি কিংবা পিপিআই ফরমেও স্বাক্ষর করেননি। পরে ব্যাংক থেকে চেক, হিসাব বিবরণী ও পিপিআই ফরম সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করলে জালিয়াতির বিষয়টি তাঁর নজরে আসে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর চেক বইয়ের ৭৮২৮৬৯৭ নম্বর চেকে স্বাক্ষর, টাকার পরিমাণ, প্রাপকের নাম ও তারিখ জালভাবে লিখে পিপিআই ফরম তৈরি করেন। পরে ওই চেকের মাধ্যমে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের পূবালী ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখার হিসাবে ৮৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ওই টাকা উত্তোলন করেন। পরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেন।
বাদীর দাবি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও চেক বইয়ের মুড়ি পর্যালোচনা করে চেকের ক্রমিক নম্বরে অসংগতি পাওয়া যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর একটি চেকের মাধ্যমে তাঁকে ছয় লাখ টাকা দেওয়া হলেও এর পরের একটি চেক দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। তাঁর অজান্তে চেকটি ব্যাংক কর্মকর্তারা নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, বাদী কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। ফলে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের কাছে তাঁর ৮৫ লাখ টাকা পাওনা থাকার কোনো কারণ নেই। তাঁর নিরক্ষরতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৭৯, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৫, ৫৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।