নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত
২০৪০ সালের মধ্যে মাথাপিছু ঋণ ১০৫ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর গবেষণা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩০ এএম
‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বক্তারা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রায় ৯০ শতাংশই আসছে ঋণ হিসেবে। ২০১০ সালের পর থেকে এই খাতে মাথাপিছু ঋণ বেড়েছে ১৩ গুণ এবং বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সাল নাগাদ তা ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ তথ্য জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এই ঋণের বোঝা কমাতে একটি ‘রিনিউয়েবল এনার্জি সভরেইন্টি ফ্যাসিলিটি’ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সার্বভৌমত্ব তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ।
কপ৩১ সামনে রেখে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই তহবিলের মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মাথাপিছু ঋণের চাপ ৭৭ শতাংশ কমিয়ে ১০৫ ডলার থেকে মাত্র ২৪ ডলারে নামিয়ে আনা সম্ভব।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বছরে প্রায় ১৫৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিনিয়োগ হচ্ছে মাত্র ১৯ কোটি ডলার, যা চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৩৫ কোটি ডলারের বিশাল বিনিয়োগ ঘাটতি থাকছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও অতিরিক্ত ঋণের চাপ কমাতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বচ্ছতা ও জলবায়ু কূটনীতি জোরদার করা প্রয়োজন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসার ও সরকারি প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলনের ওপর জোর দেন।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম. জাকির হোসেন খান ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের অধীনে এই তহবিল গঠনের আহ্বান জানান। বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতের ভর্তুকির ৫ শতাংশ এই তহবিলে স্থানান্তর করে বিনিয়োগ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন বলেন, ঋণ ও অনুদানের ভারসাম্যহীনতা দেশীয় উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, অভিযোজনের জন্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন জরুরি, কারণ এ কাজ সরাসরি আয় তৈরি করে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক খন্দকার মোরশেদ মিল্লাত মোট ঋণের অন্তত ১ দশমিক ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে সবুজ অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধাপে ধাপে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার কথাও বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শক্তি ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ ও জিএসসিসির বাংলাদেশ প্রধান ফারাহ আঞ্জুম।
সংলাপে বক্তারা জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় জাকাত ও গ্রিন সুকুকের মতো ইসলামিক অর্থায়নের যথাযথ ব্যবহার এবং সবুজ অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।