EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কক্সবাজারের আবহাওয়া রাডার তিন বছর ধরে অকেজো

ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

কক্সবাজারের আবহাওয়া রাডার তিন বছর ধরে অকেজো

তিন বছর তিন মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া রাডার। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

তিন বছর তিন মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া রাডার। রাডারটির যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট থেকে এটি অচল হয়ে পড়ে। ফলে সমুদ্র ও পর্যটন নির্ভর ঝুঁকিপূর্ণ এই উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস না পাওয়া সংকট মোকাবেলায় সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।  

পরে ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকার ভবন অক্ষুণ্ন রেখে নিজস্ব অর্থায়নে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে রাডারটি পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে এ বিষয়ে হালনাগাদ অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারে বিদ্যমান রাডার ৩টি আপগ্রেডেশনের জন্য “কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজার আবহাওয়া সংক্রান্ত রাডারসমূহের মানোন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমাপ্ত হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের উপর প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সভার কার্যবিবরনীর সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়ার তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্র ৩ বছরে বেশি সময় ধরে অচল থাকায় দুর্যোগের আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা।

প্রতিবছরই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়। এসব দুর্যোগের গতিপথ, বৃষ্টিপাতের বিস্তার এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন শনাক্ত করতে রাডারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়া রাডারটি অচল থাকায় সেই সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন কার্যত বন্ধ রয়েছে।

রাডার অচল থাকার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযান ও জেলেদের ওপর। সাগরে আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হয়ে গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে যত দ্রুত সম্ভব তথ্য পাওয়া এবং সতর্কতা জারি করা জরুরি।

কয়েক ঘণ্টার আগাম সতর্কতাও অনেক সময় নৌযানকে নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম অচল থাকায় সাগরের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে।

এতে দুর্যোগের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাডার অচল থাকায় স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়লে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতিরিক্ত সময় লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিশেষ করে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা কোনো দুর্যোগের ক্ষেত্রে সময়ের এই ঘাটতি জীবন ও সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়া রাডার বছরের পর বছর অচল অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় নয়। দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলে রাডারটি দ্রুত সচল করার পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তিন বছর তিন মাস ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অচল থাকার পেছনে কারণ কী, এটি মেরামতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কবে নাগাদ এটি পুরোপুরি সচল হবে- এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, রাডারটির যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট থেকে এটি অচল হয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

পরবর্তীতে ওই বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তাদাতা জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার কাছে কয়েক দফা চিঠি পাঠানো হয়।

২০২৪ সালে জাপানি বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে বর্তমান ভবনটি ব্যবহারযোগ্য বলে মত দেয় এবং শুধু নতুন যন্ত্রপাতি বসানোর সুপারিশ করেন। পরে ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপিত হলে সরকার ভবন অক্ষুণ্ন রেখে নিজস্ব অর্থায়নে নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে রাডারটি পুনরায় চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

কক্সবাজারের পাশাপাশি পটুয়াখালীর খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডার আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাইও শেষ হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের উপর প্রকল্প যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার কার্যবিবরনীর সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো মেলেনি।

রাডার ষ্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, রাডার অচল থাকলেও ভবনসহ স্টেশনটি পুরোপুরি ঠিক নয়। স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণে ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ১৮টি পদ ছিল। বর্তমানে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য কর্মরত রয়েছে ৪জন। এটির ভারপ্রাপ্ত দ্বায়িত্বে রয়েছে কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু দুর্যোগের পর উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করলেই হবে না; বরং দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে মানুষকে সতর্ক করতে হবে। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।

সমতল থেকে ১৬০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক রাডার স্টেশনটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি অচল হয়ে পড়লে ২০০৭ সালে পুনরায় আবারও আধুনিকায়ন হয় এই রাডারটি। যন্ত্রাংশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালের ৪ আগস্টে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন