৯ মাসে ৬১৭ নারী-শিশু ধর্ষণের শিকার, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১০৯
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ২ হাজার ৯০১টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১০৯ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৯২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৬১৭ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮৮ জনই মেয়েশিশু।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, গণপিটুনি, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, কারাগারে মৃত্যুসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা
অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ২ হাজার ৯০১টি ঘটনায় ১০৯ জন নিহত ও ২ হাজার ৭৯২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার ১ হাজার ৩৮১টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৬৮ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সময়ে গণপিটুনির ঘটনায় ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার ৬১৭ নারী-শিশু
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৬১৭ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৮৮ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে, ২২৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং দুজনের বয়স উল্লেখ করা হয়নি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানি
এ সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ১৬৯টি ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দী কারাগারে
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা ৪৩ হাজার ১৫৭ জন। কিন্তু গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব কারাগারে বন্দী ছিলেন ১ লাখ ৫ হাজার ১০২ জন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বন্দী রয়েছেন কারাগারগুলোতে।
এ ছাড়া ৯ মাসে কারাগারে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিহত ১১ বাংলাদেশি
অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে ১১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। এ ছাড়া ৫৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।
গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেদনে ৯ মাসে ১০টি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা এবং আদালতের মাধ্যমে ২০০ জনের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গুমের ঘটনা এবং মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া র্যাবের পরিবর্তে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।