সরকারি গাছ নিজের দাবি করে বিক্রি করলেন সরকারি কর্মকর্তা
ডেইলি সান রিপোর্ট, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
রায়পুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় থাকা ১০ থেকে ১২টি রেইন ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় থাকা ১০ থেকে ১২টি রেইন ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ওরফে কিরনের বিরুদ্ধে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বলে দাবি স্থানীয়দের।
মোরশেদ আলম জেলার কমলনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁর দাবি, গাছগুলো প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁর বাবা লাগিয়েছিলেন। তবে সরকারি জায়গার গাছ বিক্রির বিষয়ে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, সরকারি আইন অনুযায়ী তাঁর গাছ বিক্রি করা ঠিক হয়নি।
উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে এনায়েত উল্লাহ মাস্টারের পোলের গোড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গাছগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ছিল। সংশ্লিষ্ট নথিতেও ওই জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপরও সেখানকার ১০ থেকে ১২টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নথি অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বগা-রাখালিয়া সংশ্লিষ্ট মৌজায় ১৯৯০ নং সাবেক দাগে বোর্ডের ০.৩৪ একর জমি রয়েছে। নথিতে জমির শ্রেণি হিসেবে ০.২০ একর ভিটি, ০.১০ একর বাগান ও ০.০৪ একর নাল উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ জমির ওপর থাকা ১০ থেকে ১২টি রেইন ট্রি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। সরকারি জায়গায় থাকা মূল্যবান এসব গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গাছ কিনে নেওয়া মঞ্জু বলেন, মোরশেদ আলম নিজের গাছ বলে আমার কাছে বিক্রি করেছেন। আমি যদি জানতাম, এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার গাছ, তাহলে কখনোই কিনতাম না।
গাছ বিক্রির বিষয়ে মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ওরফে কিরন বলেন, সরকারি আইন অনুযায়ী আমার গাছ বিক্রি করা ঠিক হয়নি।
এই জায়গায় আমদের বাড়ির সামনে। রেন্ট্রি গাছগুলো আমার বাবা প্রায় ৩০ বছর আগে লাগিয়েছিলেন। তাই এখন আমরা পারিবারিকভাবে গাছগুলো বিক্রি করে দিচ্ছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা যখন তারা চাইবে, আমরা ছেড়ে দেব।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে গাছ কাটার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র পাল। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে গাছ কাটার জন্য কেউ কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় থাকা গাছ ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোরশেদ আলম গাছগুলো তাঁর বাবার লাগানো বলে দাবি করেছেন। তবে জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে নথিভুক্ত থাকায় সেখানে থাকা গাছগুলোর মালিকানা এবং সেগুলো কাটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।