EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপ গ্রেপ্তার

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপ গ্রেপ্তার
অ অ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবার করা হত্যা মামলায় জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার এএসআই মোস্তাফিজ বলেন, উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতে পাঠানো হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এর আগে শনিবার সকালে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।

সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। সেখানে তারা হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে চলে যান।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা হওয়ায় তারা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল মেরামতের পর একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের চলাফেরা ও যোগাযোগ নিয়ে পরে তদন্ত শুরু হয়।

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে নদী পুলিশ টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। পরে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। তাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পরিবারের।

এবার বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হলো। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন