EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ভারত থেকে আমদানি করা চালে বিষাক্ত উপাদান

সরকারি গুদামে থাকা ৯৫০০ টন চাল সরবরাহ স্থগিত

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

সরকারি গুদামে থাকা ৯৫০০ টন চাল সরবরাহ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের নমুনায় ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রামের সরকারি গুদামে থাকা ৯ হাজার ৫০০ টন চালের সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর পরীক্ষাগারে এই বিষক্রিয়ার বিষয়টি ধরা পড়ার বিষয়ে তথ্য উঠে আসে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে।

ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান এ প্রসঙ্গে জানান, দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষিত চালের স্তূপে প্রাকৃতিকভাবেই আফলাটক্সিন নামক ক্ষতিকর ছত্রাকের জন্ম হতে পারে। বর্তমানে চালের নমুনায় যা পাওয়া গেছে তা সহনীয় সীমার মধ্যে থাকলেও, এর মাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেই মানুষের লিভার ও স্বাস্থ্যের জন্য তা মারাত্মক ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল’-এর সাথে সম্পাদিত চুক্তির অধীনে গত ২১ জুলাই ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামক একটি জাহাজে করে ১০ হাজার ৮৭৮ টন চালের চূড়ান্ত চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।

গত ২২ জুলাই প্রাথমিক ল্যাব টেস্টের পর চাল মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে ঘোষণা করা হয়। ২৪ ও ২৫ জুলাই তা খালাসের অনুমতি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এরপর চালের লটগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের সরকারি ফুড ডিপোতে (সিএসডি) পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর সেখানকার কর্মকর্তারা চালের বিবর্ণ রঙ ও নিম্নমান নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন।

এর জেরে বন্দর থেকেই ১ হাজার ৩৭৮ টন চাল জাহাজে ফেরত পাঠানো হয় এবং অবশিষ্ট ৯ হাজার ৫০০ টন চাল গ্রহণ করা হয়।

পরবর্তীতে চট্টগ্রামের হালিশহর ও ঢাকার গুদামের চালের স্তূপ থেকে ব্রি’র প্রতিনিধিদল পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করলে সেখানে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। এতে পুরো লটের বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম জসিম উদ্দিন খান।

উত্থাপিত এই বিষাক্ত উপাদানের দাবিটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল। এক ইমেইল বার্তায় তারা জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের পরীক্ষাগারে যৌথভাবে সংগৃহীত সিলগালা নমুনা পরীক্ষা করে চুক্তির সমস্ত শর্ত পূরণের প্রমাণ মিলেছে।

আন্তর্জাতিক পরিমাপক সংস্থা এসজিএস-এর প্রতিবেদনেও কোনো ক্ষতিকর আফলাটক্সিন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে  তারা।

সরবরাহকারীর দেশীয় শিপিং এজেন্ট ‘সেভেন সিজ শিপিং লাইন’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার চালানো হলে ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে খাদ্যশস্য সরবরাহে আগ্রহ দেখাবে না, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে সংকটে ফেলবে।

কর্তৃপক্ষ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এই পরস্পরবিরোধী বিবৃতির কারণে প্রাথমিক নমুনা সংগ্রহের স্বচ্ছতা এবং পুরো চালানের গুণগত মান নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর সুনির্দিষ্টভাবে বিষাক্ত উপাদানের ঘনত্ব বা পিপিএম মাত্রা প্রকাশ করেনি।

অন্যান্য গুদামে মজুত থাকা চালের অধিকতর পরীক্ষা করা হবে কী না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি

আরও পড়ুন