EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
অ অ

বিমান চলাচলের নিরাপত্তাকে ব্যয় নয়, বরং জাতীয় অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নিরাপদ বিমান চলাচল শুধু দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয় নয়। এটি অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীদের আস্থা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিমানবন্দর, টার্মিনাল ও এয়ার নেভিগেশন ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন চলছে।

এসব উদ্যোগের সুফল পেতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও আধুনিক করতে হবে। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, মানুষের জীবন ও মূল্যবান সম্পদ সুরক্ষা, কার্যক্রমের প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে ফ্লাইট সেফটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শক্তিশালী উড্ডয়ন নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনের এ সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করেন। আলোচনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয়, দলগত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্ব পায়।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফ্লাইট সেফটির চর্চা, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

আরও পড়ুন