EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এসব তথ্য জানান।

সিইসি বলেন, শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই কমিশনের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতের সব নির্বাচনেও একই মান বজায় রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় ইসি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো মান বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ভালো নির্বাচন আয়োজনের পরই কমিশনের দায়িত্ব শেষ হবে না। ভবিষ্যতেও নির্বাচনের মান ধরে রাখতে সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকতে পারে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা জরুরি।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, এসব ঘটনা ঠেকাতে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি ভাঙলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শেষ করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর লাগতে পারে বলে জানান সিইসি। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ, এরপর পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষা ও বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময়সূচি ঠিক করা হবে।

২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি। এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সুযোগ, নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানো এবং তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন।

সিইসি বলেন, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা চান তিনি।

আরও পড়ুন