মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাদক পাচার ও অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থদাতা ও পাচারচক্রকে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে ৩০ হাজার ১৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন অপরাধে মোট গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৪ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ৪ হাজার ২৫১ জন এবং চট্টগ্রামে ৮০৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইনে মাদক পাচারের শাস্তি, অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু খুচরা বিক্রেতা ও বাহকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাচারচক্রের পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও বড় কারবারিদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে মাদক ব্যবসা ও অর্থ পাচার ঠেকাতে কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
মাদক শনাক্তে আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কুকুর ও উন্নত পরীক্ষাগার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় নিরাময়কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা ২৫০টিতে উন্নীত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তরুণদের মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পরিবার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।