আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এর বাৎসরিক প্রাক্কলন
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ বৈশ্বিক তথ্যভিত্তিক ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
এর বিপরীতে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানের ঋণের অনুপাত অনেক বেশি ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
আইএমএফের উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জিডিপির বিপরীতে সরকারি ঋণের সম্ভাব্য হার ভারতের প্রায় ৮৩ শতাংশ, নেপালের প্রায় ৪৯.৩৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ, , শ্রীলঙ্কার ৯৫ শতাংশ, ভুটানের ১১৬ শতাংশ, মালদ্বীপের ১৩১ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এছাড়া চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত অনেক কম।
অন্যদিকে মালদ্বীপ ও ভুটানের ঋণ পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, তাদের মোট বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদন বা জিডিপির আকারকেও ছাড়িয়ে গেছে এই ঋণের পরিমাণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকা দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উন্নয়ন ব্যয়ের চাপের মধ্যেও এই ইতিবাচক অবস্থান সরকারের নীতিনির্ধারণী নমনীয়তা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির সুফল ধরে রাখতে হলে সরকারকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতি অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ঋণ যাতে অনুৎপাদনশীল খাতে অপচয় না হয়ে কেবল উৎপাদনশীল ও উচ্চ-অর্থনৈতিক সুফলদায়ক প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক মন্দা এবং উন্নয়ন চাহিদা পূরণের বহুমুখী চাপে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ (ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও) বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের ভবিষ্যৎ চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সতর্কতা বজায় রেখে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ তার এই অর্থনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থান দীর্ঘকাল ধরে রাখতে সক্ষম হবে।