EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

আমিনবাজারে বর্জ্যের স্তূপ এখন দৃষ্টিনন্দন বাগান, ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

আমিনবাজারে বর্জ্যের স্তূপ এখন দৃষ্টিনন্দন বাগান, ডিসি ফরিদার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে দুই দশকের পুরোনো বর্জ্যের ভাগাড়কে সবুজ বাগানে রূপ দেওয়ার উদ্যোগকে অনন্য উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ প্রশংসা করেন। 

ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের নেতৃত্বে বর্জ্য অপসারণ করে জমি প্রস্তুত ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় এ বাগান গড়া হয়েছে। এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দরভাবে বদলে দেওয়া যায়, আমিনবাজারের উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ। বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এলাকাবাসীকেও দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসককে উদ্যোগটি চার কিলোমিটারের বাইরেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। মহাসড়কের দুই পাশের মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ফাঁকা জায়গার পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগ করে দিতে বলেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও প্রশাসনকে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। তাঁর ভাষায়, ফরিদা খানম দেশের অন্য ৬৩ জেলার প্রশাসকের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অন্য ৬৩ জেলার জেলা প্রশাসকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশে প্রায় দুই দশক ধরে ময়লা ফেলে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু স্তূপ তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী এ ভাগাড় দেখে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় তিন মাসে বর্জ্য সরানো হয়।

পরে জমি প্রস্তুত, ২০টি সারফেস ড্রেন ও সার্ভিস শেড নির্মাণ এবং মাটির ক্ষয়রোধে নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন ঘাস লাগানো হয়। ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া বাগানে ১,০৫০টি নিমগাছ, ৩,৮১৫টি সুপারি, ৬০টি তালগাছ, ৬৫০টি মাধবীলতা, ৪৫টি সিজিয়াম ও ৭০০টি রঞ্জনসহ মোট ৬,৫৮৫টি গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া সোলার প্যানেল ও উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রাতের আলোর জন্য ১২০টি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ আমিনবাজার এখন দূষণমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন।

আরও পড়ুন