রিসোর্টে আগুনের পর থেকে নিখোঁজ ২ শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন
রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাঁদের থাকার বুকিং ছিল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে। রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাঁদের থাকার বুকিং ছিল।
তবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁদের নাম না থাকায় পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাঁরা হলেন নাহিদুর রহমান তুহিন, তাঁর স্ত্রী আফসানা এবং দুই মেয়ে রোবাইনা ও সুনাইনা।
গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাঁদের থাকার বুকিং ছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজনেরা। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তালিকায়ও তাঁদের নাম নেই।
নাহিদুর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ের বয়স সাত ও তিন বছর।
নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তাঁর ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। এরপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করছেন তাঁরা।
নাহিদুরের কর্মস্থলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামানও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বর্তমানে চীনে অবস্থানরত এই কর্মকর্তা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই নাহিদুরের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদুর নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, আগুনের পর প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের একটি শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ছয়জন। এ ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আ. মো. মান্নান।
