EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

‘নির্বাচন শেষ হলেও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি’

ডেইলি সান রিপোর্ট, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

‘নির্বাচন শেষ হলেও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশে দীর্ঘদিন নির্বাচন ছিল না। নির্বাচন হওয়ার পর সব ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে গেছে, এমনটি বলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, কোনোভাবেই যেন দেশের সম্প্রীতি ও শান্তি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

এসময় শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, রাতের পাহারা, পুলিশি টহল ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

সভায় ১৯৪৬ সালে বৃহত্তর নোয়াখালীতে মহাত্মা গান্ধীর সফরের কথা স্মরণ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর বর্তমান শান্তিপূর্ণ ও অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে সারা দেশে নানা ঘটনা ঘটলেও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে সহজে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির সুযোগ নেই। ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ওঠা সম্প্রীতির কারণে এ অঞ্চলে সুন্দর একটি সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরণের চিন্তাভাবনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করলেও বিষয়টি বোঝা যায়। দেশের বাইরে এবং দেশের ভেতরে থেকেও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন এসব অপচেষ্টা দেশের সম্প্রীতি ও শান্তি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, রাতে পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও পাহারার ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত টহল দেবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

যেসব পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেসব স্থানে দ্রুত ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছীবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মিলন মণ্ডল ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ।

এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন