গুলশানে অবৈধ বারে অভিযান, ২৪৪ লিটার বিদেশি মদ-বিয়ার জব্দ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
রাজধানীর গুলশান-২-এ ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২৪৪ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আতাউর রহমান শামীমকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অভিযান চালানো হয়। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএনসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো বার লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি মদ মজুত এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হচ্ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে তথ্য যাচাই করে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২২৩ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়, যার পরিমাণ ১৭৭ লিটার। এ ছাড়া ২০৯টি বোতল ও ক্যান থেকে ৬৭ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।
ডিএনসির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত হলেও ওই নামে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেখানে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে আটক করা হয়। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার প্রমাণ দেখাতে না পারায় বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মাদক মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. ওমর জামিল (৪৫) নামে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে ডিএনসি। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে পলাতক আসামি হিসেবে মামলা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার শামীম, পলাতক ওমর জামিল ও অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণি ২৪(গ) ও ৪১ ধারায় গুলশান থানায় মামলা হয়েছে। জব্দ করা আলামত ও রাসায়নিক পরীক্ষার নমুনা ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে।
ডিএনসি জানিয়েছে, পলাতক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ‘জার্মান ক্লাব’ পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত কার্যক্রমের প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়েও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।