EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেট খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেট খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি

প্যাকেট খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল চূড়ান্ত করার দাবি। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষায় প্যাকেটের সামনে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কতা লেবেল চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

একই সঙ্গে খাদ্যশিল্পের হস্তক্ষেপমুক্ত রেখে ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর খসড়া দ্রুত চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এ দাবি জানান। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ‘অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, দেশে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার এসব খাবার খান। এর ফলে খাদ্যাভ্যাসজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অথচ প্যাকেটের পেছনে থাকা জটিল পুষ্টিতথ্য বুঝে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়া অনেক ভোক্তার জন্য কঠিন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব জানান, ‘খসড়াটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিয়েছি এবং ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সাথেও কাজ করছি। আশা করছি এটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে, যার অন্যতম কারণ অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ। বাধ্যতামূলক এফওপিএল খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে, তাই কোম্পানির হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে খসড়া প্রবিধানমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে।’

ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘প্যাকেটজাত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রকৃত পুষ্টিমান ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল সবচেয়ে বেশি কার্যকর।’

জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এফওপিএল বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৩ দশমিক ৪ অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।’

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কনসালটেন্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা। ওয়েবিনারে নাগরিক সমাজ, এনজিও ও যুবসমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’।

আরও পড়ুন