তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকার, দুই নারীসহ আটক ১১
ডেইলি সান রিপোর্ট, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে দুই নারীসহ ১১ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় প্রায় এক লাখ টাকার জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত উপজেলার বাঁশবাড়িয়া পয়েন্টে আটটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারে ইলিশ শিকার করতে দেখা যায় জেলেদের। খবর পেয়ে বিকেলে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান চললেও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, গোলখালী, কাটাখালী, আউলিয়াপুর, রণগোপালদী, পাতারচর ও চরবোরহান এলাকায় জেলেদের মাছ ধরার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময়েও কিছু অসাধু জেলে প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় নদীতে মাছ ধরছেন।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশবাড়িয়া এলাকার নদীতে আটটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে জেলেরা জাল ফেলেছেন। এর মধ্যে দুটি ট্রলারে নারীরা ছিলেন। একটি ট্রলারে পাঁচজন নারী এবং অন্যটিতে একটি শিশুসহ চারজন নারীকে মাছ ধরতে দেখা যায়।
দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে কয়েকটি নারী জেলের দল ট্রলার নিয়ে তাদের আওতাধীন এলাকায় মা ইলিশ শিকার করতে আসেন। তারা মূলত বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তাদের আটক করতে গেলে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কঠোর অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, তিনি নিজেই তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছেন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌপুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, বুধবার দুই নারীসহ মোট ১১ জেলেকে আটক করা হয়েছে। পুরুষ জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। নারীদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা দেখা হচ্ছে। অভিযানে প্রায় এক লাখ টাকার জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।