EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবায় সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবায় সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে সুস্থ, সক্ষম ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে নীতিগত সংস্কারকে দ্রুত বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সম্মেলনের আয়োজন করে সেরাক-বাংলাদেশ।

কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, কৈশোরে প্রজনন স্বাস্থ্য ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বিষয়। কিন্তু সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে কিশোর-কিশোরীরা প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কোথায় যাবে বা কার কাছে সহায়তা চাইবে, তা বুঝতে পারে না। একইভাবে মানসিক আঘাত ও পারিবারিক নির্যাতন তাদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এসব সমস্যা চেপে রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, প্রশ্ন করলেই সন্তানদের ‘বেয়াদব’ বা ‘এঁচোড়ে পাকা’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার সামাজিক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগ ও কার্যক্রম হতে হবে পরিবারকেন্দ্রিক।

কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে একযোগে বৃহৎ পরিসরে জাতীয় প্রচারাভিযান শুরু হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলের পরিস্থিতি এক রকম নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার হটস্পট চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গে ড. এম এ মুহিত বলেন, যথাযথ পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎসের অভাবে অনেক তরুণ তথ্য জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

তরুণ প্রজন্মের জন্য মনোসামাজিক পরামর্শ ও বিশ্বস্ত তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসীন। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি আতিকা রহমান চৌধুরী ও কিশোর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

আরও পড়ুন