EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

চাঁদাবাজি-দখলদারিতে জড়ালে কাউকে ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

চাঁদাবাজি-দখলদারিতে জড়ালে কাউকে ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: পিএমও

অ অ

দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান। দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যরা—অন্যায় করলে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। প্রায় তিন ঘণ্টার এ বৈঠকে সরকারের আট মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, নির্বাচনী এলাকার সমস্যা, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ একাধিক সংসদ সদস্য বৈঠকে বক্তব্য দেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, সরকার গঠনের পর গত আট মাসে বিভিন্ন খাতে কী কাজ হয়েছে, উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি কতটা এবং বাস্তবায়নে কী ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা, মানুষের প্রত্যাশা এবং সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথাও শোনেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে সমস্যা সমাধানে কাজ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দল বা সরকারকে বিব্রত করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও বৈঠকে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে পার পাবেন না। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়, যোগ্য ও স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম বা হস্তক্ষেপের সুযোগ না রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বৈঠকে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে, যাতে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে। কারচুপির অভিযোগ তুলে কাউকে কোনো ইস্যু তৈরির সুযোগ দেওয়া যাবে না।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। এ জন্য ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগানো হবে। স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। বিএনপি চায়, নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি।

নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি রক্ষায় সক্রিয় থাকার আহ্বান

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পূজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে কাজ করবেন। পূজার সময় কোথাও যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

উন্নয়নকাজ ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়। জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া জাপানের শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দ্বিতীয় কাফকো স্থাপন এবং জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সজাগ থাকা এবং সরকারের কার্যক্রমের সঙ্গে দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতার সমন্বয় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন