সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে তথ্য
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশের বেশি অব্যবহৃত
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশের বেশি অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। তবে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ সক্ষমতার মাত্র ৩৩-৪২ শতাংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে।
একইভাবে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই চিত্র তথ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে এ খাতে স্থাপিত সক্ষমতার প্রায় ৭২ থেকে ৮৭ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র থেকে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, সক্ষমতার মাত্র ৩৯ থেকে ৪৭ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। অব্যবহৃত থাকছে প্রায় ৫৩ থেকে ৬১ শতাংশ সক্ষমতা।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিনটি প্রধান জ্বালানিভিত্তিক খাতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্যাস ও তরল জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিপরীতে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
তবে উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার না হওয়ার কারণ সম্পর্কে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কী না তা বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি, জ্বালানি আমদানির সীমাবদ্ধতা, কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা কারিগরি সমস্যার কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে কী না, তা অস্পষ্ট।
বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট বরাদ্দ নিয়েও আলোচনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
এতে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ ১৮ হাজার ১০৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
বৈঠকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের মূল্য নিয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকেরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। এতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস,এম, জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, ব্যরিষ্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মো. আবুল হাসনাত অংশ নেন।