প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেতে অবরোধ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন পরীক্ষার্থীরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে তা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষা দিতে আসা চাকরিপ্রত্যাশীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কেন্দ্রে আসার কথা থাকলেও তারা আসছিলেন না। এদিকে পরীক্ষার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাচ্ছিল। এতে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
ওই পরীক্ষার্থী বলেন, সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা এসে জানান, পরীক্ষা হবে না।
আরেক চাকরিপ্রত্যাশী দাবি করেন, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ফেসবুকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রশ্ন বলে বিভিন্ন প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়তে দেখেছেন তারা।
ওই পরীক্ষার্থী বলেন, পরে দেখা যায়, সেই প্রশ্নই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছিল। পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। এক দিন আগেও তাদের কিছু জানানো হয়নি। অনেক পরীক্ষার্থী ঢাকার বাইরে থেকে এসেছেন। তাদের কারও দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কেউ হোটেলে আবার কেউ আত্মীয়ের বাসায় থেকেছেন। এতে তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সাধারণত দেখা যায় না বলে তাদের ধারণা। কিন্তু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর প্রতিকার চেয়ে পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
২৪২টি পদের বিপরীতে এ নিয়োগ পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।