EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

অটোরিকশাচালকই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন: পুলিশ

গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন

ডেইলি সান রিপোর্ট, কুমিল্লা

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ এএম

অটোরিকশাচালকই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন: পুলিশ
অ অ

কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এ তথ্য জানান। এর আগে চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে কিশোরীকে একা পেয়ে চালক গন্তব্যে না গিয়ে ভিন্ন পথে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন অটোরিকশা থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে বাবার কাছে নিজের লাইভ লোকেশন ও বার্তা পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায়। তবে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় সময়মতো সেই বার্তা দেখতে পাননি।

অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া পার হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে গিয়ে থামে। সেখানে নিজেকে বাঁচাতে কয়েকটি ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে তাজমিন। তবে ব্যর্থ হয় সে। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চালক সুমন গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। পরে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই স্থান থেকে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত তাজমিনের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কলতালিকা পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিহতের পরিবারের তথ্যমতে, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে সর্বশেষ দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় সে।

পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনেরা গিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আরও পড়ুন