EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের বিরোধ মেটালেন এমপি কামরুল

ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ এএম

তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের বিরোধ মেটালেন এমপি কামরুল

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট বিরোধ সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের মধ্যস্থতায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় সংসদ সদস্য উভয় পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন। পরে দুই পক্ষই তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি জানায়।

সালিশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, এ কে এম নাসের উজ্জ্বলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে বীরজয় লক্ষ্মী দুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার বল জালাল মিয়ার অটোরিকশায় পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাফিজ আলীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রোববার রাতে তাহিরপুর বাজারে দুতম গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সঙ্গে মমিসিংগাহাটি এলাকার হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজকে জয়নগর ও বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বুধবার সকালে গ্রামের লোকজনকে যার যা আছে, তা নিয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়।

পরদিন বুধবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুলিশ সার্কেল কার্যালয়ের সামনে শনির হাওর এলাকায় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় সংঘর্ষ থামে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। তাঁদের কেউ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে, আবার কেউ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন