আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত জামালপুরের শিশু সাংবাদিক কাশফিয়া
ডেইলি সান রিপোর্ট, জামালপুর
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
কাশফিয়া জান্নাত কুহু। ছবি: সংগৃহীত
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচুড়া ইউনিয়নের মোমেনাবাদ গ্রামের কাশফিয়া জান্নাত কুহু এবার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে। ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের চলতি বছরের আয়োজনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছে সে।
কাশফিয়া শিক্ষক দম্পতি কাইয়ুম হিলালী মাইকেল ও শিউলী খাতুনের সন্তান। শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ স্বীকৃতি পেয়েছে। ঢাকায় পড়াশোনা করলেও শিশু অধিকার ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে শৈশব থেকেই যুক্ত ছিল কাশফিয়া।
চলতি বছরের এই পুরস্কার আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ২শ ৯৮জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছে ৪২জন।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সংগঠন কিডস রাইটসের ২০২৬ সালের পুরস্কার আয়োজনের মনোনয়ন প্রোফাইল অনুযায়ী কাশফিয়ার কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ প্রোফাইল অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে বেড়ে উঠার সময় কাশফিয়া তার আশপাশের মেয়েদের বাল্যবিয়ের শিকার হতে এবং শুধু মেয়ে হওয়ার কারণে বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে দেখেছে। বিষয়গুলো তাকে শিশু অধিকার ও লিঙ্গ সমতার পক্ষে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
কিডস রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কাশফিয়া ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকটি বাল্যবিবাহ বন্ধে হস্তক্ষেপ করেছে। একই সময়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়া অসংখ্য শিশুকে আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতেও সহযোগিতা করেছে।
পাশাপাশি উঠান বৈঠক ও স্থানীয় সেমিনারের মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে। কাশফিয়া জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ নিয়েও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কাশফিয়া শিশু সাংবাদিক হিসাবেও নিয়মিত শিশু অধিকার, বাল্যবিয়ে, নারী-পুরুষের বৈষম্য, শিক্ষা ও পরিবেশের মত বিষয় নিয়ে কাজ করছে। শিশু সাংবাদিকতার বাংলা সাইট ‘হ্যালো’তে তার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক, শিশুদের অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্য, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বিষয় উঠে এসেছে।
শুধু এ বছর নয়, কাশফিয়ার শিশু অধিকার কেন্দ্রিক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছিলো গেল বছরও। ২০২৫ সালে গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখায় একই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল কাশফিয়া।
কাশফিয়ার বড় বোন কারিমা ফেরদৌসী কেকাও শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গ সমতা ও জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। দুই বোনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে আগেই আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় আসে জামালপুরের মাদারগঞ্জ।
জামালপুরের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে এসে কাশফিয়ার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন পাওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু অধিকার নিয়ে তার কাজ এখন শুধু মাদারগঞ্জ কিংবা জামালপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার অঙ্গনেও জায়গা করে নিয়েছে তার নাম।
কিডস রাইটস প্রতিবছর শিশুদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তরুণদের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়। ২০০৫ সালে এই পুরস্কার চালু হয়। প্রতি বছর একজন বিজয়ীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। একই সাথে একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারটি তুলে দেন।