EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কক্সবাজারে সেমিনার

রোহিঙ্গা সহায়তায় দেশীয় পরিকল্পনার দাবি স্থানীয় সংগঠনগুলোর

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

রোহিঙ্গা সহায়তায় দেশীয় পরিকল্পনার দাবি স্থানীয় সংগঠনগুলোর

কক্সবাজারে গ্র্যান্ড বারগেইন নিয়ে সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তায় ‘গ্র্যান্ড বারগেইন’-এর স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশীয় পর্যায়ে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির দাবি জানিয়েছেন মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কক্সবাজারে কোস্ট ফাউন্ডেশন, বিডিসিএসও প্রসেস ও কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম আয়োজিত ‘গ্র্যান্ড বারগেইন ২০২৬ পরবর্তী স্থানীয় মানবিক সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি জানান।

গ্র্যান্ড বারগেইন ২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে বিশ্ব মানবিক সম্মেলনে গৃহীত হয়। এর অন্যতম প্রতিশ্রুতি হলো মানবিক সহায়তার অন্তত ২৫ শতাংশ যথাসম্ভব সরাসরি স্থানীয় ও জাতীয় সংস্থার কাছে পৌঁছানো। বর্তমানে স্বাক্ষরকারী দাতা দেশ ও সংস্থার সংখ্যা প্রায় ৭০। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরামের মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মূল প্রবন্ধে কোস্ট ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা রেসপন্স কোঅর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের আটটি সেক্টরের সবগুলোই জাতিসংঘ সংস্থার নেতৃত্বে। একটি সেক্টরের সাব-সেক্টরে শুধু একটি আন্তর্জাতিক এনজিও সহ-নেতৃত্বে আছে। চলতি বছর যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) তহবিলের ৮৭.৯৬ শতাংশ পেয়েছে জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক এনজিও পেয়েছে ৭.৭৮ শতাংশ ও জাতীয় এনজিও ৪.২৬ শতাংশ। স্থানীয় এনজিও কোনো তহবিল পায়নি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সরাসরি অর্থায়নের নামে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি নির্দিষ্ট এনজিওকে ৩৪টি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থায়ন করছে। একইভাবে, একটি দেশীয় সংস্থা, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত হলেও, জাতীয় এনজিও হিসেবে তহবিল পাচ্ছে। এ ধরনের চর্চা ন্যায্য নয় এবং অন্যান্য স্থানীয় এনজিওর অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।

অগ্রযাত্রার নির্বাহী পরিচালক নিলীমা আক্তার বলেন, বর্তমান যৌথ সাড়া পরিকল্পনায় (জেআরপি) স্থানীয় এনজিওগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ নেই। তাহলে কীভাবে সহায়তার স্থানীয়করণ নিশ্চিত করা সম্ভব? তিনি নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর জন্য সরাসরি অর্থায়নেরও দাবি জানান। 

সুশীলনের উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান স্থানীয় এনজিওর হাতে সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের ক্ষমতা হস্তান্তর এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি ও নমনীয় তহবিলের দাবি করেন। হেল্প কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম রোডম্যাপ প্রণয়নে স্থানীয় এনজিওর সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।

রোহিঙ্গা রেসপন্স কোঅর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের প্রধান ইগর চিওবানু ও কক্সবাজার এনজিও প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়কারী কোরিন বালি স্থানীয় এনজিওর কাছে আরও অর্থায়ন পৌঁছাতে ও স্থানীয় নেতৃত্বে সাড়াদান নিশ্চিতে কাজ করার আশ্বাস দেন। জেএনইউএসের নির্বাহী পরিচালক শিউলি শর্মা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন।

আরও পড়ুন