পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কাউকে সন্তুষ্ট করতে নয়, দেশের প্রয়োজনেই এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত
দেশের বিমান চলাচলের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হওয়ায় এ চুক্তি করা হয়েছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ এএম
কোনো দেশ বা পক্ষকে খুশি করার জন্য নয়, দেশের প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে করা চুক্তিও কোনো পক্ষকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে নয়। দেশের বিমান চলাচলের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবে সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হওয়ায় এ চুক্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো চুক্তি করার আগে এর ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা ও দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনগত কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো যাচাই করার পরই চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন হলে এয়ারবাসের পাশাপাশি বোয়িংয়ের সঙ্গেও ব্যবসা করতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই বলেও জানান তিনি। দেশের স্বার্থে অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক কোনো সুযোগ পাওয়া গেলে তা বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
উড়োজাহাজকে শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশের মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের সুযোগ পান। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য নতুন বাজারে পৌঁছানো, বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়ানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও বিমান যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে।
নতুন সহযোগিতা শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী ও নমনীয় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ইউরোপের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে আশা প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।