কর্মসূচি বাস্তবায়ন সেলের সভা
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কতটা এগোল সরকার
প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
বৃক্ষরোপণ সেলের পঞ্চম সভায় সভাপতিত্ব করছেন নজরুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে গঠিত সেলের পঞ্চম সভায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে এ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান সভায় সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। সভায় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা, চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনার বিপরীতে অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নির্ধারিত ছকে তথ্য দেওয়া ১১টি দপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫২ লাখ ৯৩ হাজার চারা রোপণের তথ্য মিলেছে। ছয়টি দপ্তর ইতিমধ্যে নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় অঞ্চলে বন অধিদপ্তরের আরও ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। একে সফল করতে জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। বৃক্ষরোপণে কোনো অনিয়ম ও অনাচার সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে কিছু চারা মারা যাবে, তাই সব মন্ত্রণালয়কে আগামী চার বছরের পরিকল্পনায় সেই হিসাব ধরতে হবে। তিনি নার্সারির সক্ষমতা বাড়াতে বন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ও ভূমিরূপ বিবেচনা করে গাছ লাগালে চারার বেঁচে থাকার হার বাড়ানো সম্ভব। সে বিবেচনায় আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি কেওড়া চারা রোপণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ চারার সুরক্ষা ও বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে রোপণস্থলের তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।
সভায় শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে ‘One Tree One Child’ উদ্যোগেরও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।