বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমঞ্চে ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
একটি গ্রাম থেকে ১৪ বছর আগে শুরু হওয়া এক মানবিক উদ্যোগ এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। বর্তমানে ১৫টি দেশে বিস্তৃত এই সামাজিক সংগঠন ‘ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন’ এর লোগো জাতিসংঘের পর্দায় প্রদর্শনের ঘটনাটিকে সংস্থাটি তাদের মানবিক যাত্রার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে।
ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ১১টি আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।
গত ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এসব আয়োজনে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে,নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী হোসে রামোস-হোর্তা ও হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসসহ বিশ্বনেতা, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
আলোচনায় দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে। অনুষ্ঠানে শূন্য ভিক্ষাবৃত্তি, শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য গৃহহীনতা, চিকিৎসায় শূন্য মৃত্যু ও শূন্য দক্ষতাহীনতা ধারণাটি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন ক্যাপ্টেন কিবরিয়া।
ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিশ্বের শুধু প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। এটিকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন প্রজ্ঞা,সহযোগিতা ও মানবিকতা। অনুষ্ঠানে প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং সংকটের টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এ ইভেন্টে আলোচনা হয়।
ফাউন্ডেশনটি জানিয়েছে,বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য তারা ইতোমধ্যে মানবিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রচলিত দাতব্য কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে তারা মানুষের মর্যাদা, সুযোগের সমতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন তারা।