নির্ধারিত দামে এলপিজি না পেলে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান
অভিযোগ পেলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি পাওয়া না গেলে জনস্বার্থে বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ পেলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা রয়েছে। এর মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন সভা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তদারকি চলছে বলেও জানান তিনি। এর আগে অনিয়মের কারণে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। এখন এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও সরকার আলোচনা করছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তার ভাষ্য, জ্বালানি মন্ত্রী এলপিজি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এলপিজি নিয়ে বাজারে তৈরি হওয়া বর্তমান সংকট কমে আসবে।
নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এলপিজি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পণ্য। এটি ছাড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে—সরকার এমনটা মনে করে না। দাম বাড়ার পরিস্থিতিতে এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতকারীরা যেন ন্যায্য মূল্য পান, সেদিকেও সরকার নজর দিচ্ছে। এতে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হবে না এবং দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, যারা আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য উদ্যোগ নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।