কর্মকর্তাদের পদায়নে সততা ও কর্মদক্ষতাই একমাত্র মাপকাঠি: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। সংগৃহীত
কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস ছাড়াই কেবল সততা ও কর্মদক্ষতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে এবং প্রশাসনে গতি আনতে কর্মকর্তাদের সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং নির্দিষ্ট কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্থানীয় সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় এবং জনকল্যাণে শতভাগ অর্থ সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করছে। অনুষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি সমন্বয়, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী যাচাই-বাছাই এবং পৌরসভার নানাবিধ নাগরিক সমস্যা সমাধানের ওপর দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রে জমির সঠিক তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব স্থানীয় কৃষি বিভাগের ব্লক সমন্বয়কদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা এবং তা বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণকে সমন্বয় করার পরামর্শ দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
বক্তব্যে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা যেমন- নাগরিক সেবা অনলাইনকরণ, পৌর এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়ার জন্য মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সরকারি কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচার বা মামলার ভয়ে পিছপা না হয়ে আইনি ও যৌক্তিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণ যাতে সহজেই তাদের দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারে, সে জন্য সরকারি অফিসগুলোর দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রাখতে হবে।
নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও উন্নত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান। অন্যান্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সভায় সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পৌরসভার প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।