শিক্ষকদের পেনশনের টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করুন: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সংগৃহীত
শিক্ষকদের পেনশনের টাকা লুটপাটকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) আয়োজিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬-এ এসব কথা বলেন তিনি
ইশরাক হোসেন বলেন, তারা যত বড়ই হোক না কেন, তাদের বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকার নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের পেনশনের টাকা যেই গোষ্ঠী এটিকে লুটপাট করেছে, আমি আপনাদের অনুরোধ জানাবো, যদি কোনো ব্যাংকে থেকে থাকে বা অন্য যেখানেই থেকে থাকুক, তাদেরকে আপনারা চিহ্নিত করেন। তারা যত বড়ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আপনারা মামলা করেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার অবশ্যই নিশ্চিত করবে যে তাদের উপযুক্ত বিচার এবং শাস্তির আওতায় যাতে আমরা তাদেরকে নিয়ে আসতে পারি। আপনাদের এই কষ্টার্জিত অর্থ যাতে আমরা ফেরত এনে আপনাদেরকে দিতে পারি, আমার জায়গা থেকে অন্তত এটা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’
প্রয়োজনে শিক্ষকদের দুদকে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রয়োজনে আপনারা দুদকে মামলা করবেন। দুদক কর্তৃপক্ষ যারা রয়েছেন তাদের সাথে প্রয়োজন হলে আমিও কথা বলব।’
শিক্ষকদের বেতন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে অনেক পরিশ্রম করেন। কিন্তু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁরা সেভাবে বেতন পান না।
তিনি বলেন, ‘অনেক যারা রিটায়ার টিচারদের দেখেছি যে তারা পেনশনের দিকে তাকিয়ে থাকেন পেনশনটা হলে তারা একটা কিছু করবেন এবং এটা নিয়ে একটা অনেকে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করেন।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। ইশরাক হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় রয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আপনাদেরকে ডাকে না। কেন ডাকে না? আপনারা একটা নিবন্ধিত সংগঠন। অবশ্যই আপনাদেরকে ডাকতে তারা বাধ্য।’
শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দুঃখ-কষ্টের কথাগুলো শুনবেন এবং আপনাদের এই সমস্যা নিরসনের জন্য কাজ করে যাবেন। আমিও আপনাদের পাশে সেটি অর্জন করার জন্য আমার জায়গা থেকে আমার সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
সম্মেলনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে মো.সাইদুর রহমান সরকার এবং মহাসচিব হিসেবে মো. রেজাউল করিম হৃদয়ের নাম ঘোষণা করেন ইশরাক হোসেন।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাবা-মা ছোটবেলায় বলতো যে বাবা-মার পরেই হলো শিক্ষকের স্থান।’ শিক্ষকদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি দলীয় একটি কর্মসূচি থেকে সম্মেলনে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় এই কর্মসূচি বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ওই কর্মসূচির একটি অংশ সম্পন্ন করেই তিনি সম্মেলনে এসেছেন বলে জানান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি রইচ উদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
