EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনীতি-প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনীতি-প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। দ্রুত বাংলাদেশ-কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সই, কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।

পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে কোরীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ সইয়ের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এটি দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য আরও বেশি বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চমানের তৈরি পোশাক, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবাখাতেও সহযোগিতার বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরেন।

কোরিয়ার উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করে তিনি জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

কোরিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বে পরিণত হওয়ার প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

প্রতিমন্ত্রী নিয়মিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক (এফওসি) ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকে দুই পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের প্রশিক্ষণে কোরিয়ার সহায়তার প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

এ ছাড়া বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত কোর্সে অংশ নিতে কোরিয়ার সামরিক সদস্যদের পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী কোরীয় পক্ষকে জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সেখানে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আমন্ত্রণও জানান তিনি।

কোরীয় পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহকে স্বাগত জানায়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমসহ পারস্পরিক সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করে তারা।

আরও পড়ুন