মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) চার সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত, একজনকে তিরস্কার এবং একজনের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২২, ২৪ ও ২৯ সেপ্টেম্বর এসব আদেশ জারি করা হলেও বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে সিপাই বরখাস্ত
বরিশাল জেলা কার্যালয়ে কর্মরত সিপাই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, পরিবহন ও বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর বরগুনার একটি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে আরেক সিপাই বরখাস্ত
বরিশাল জেলা কার্যালয়ের আরেক সিপাই ফয়সাল হোসেন ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
২১ সেপ্টেম্বর বরিশালের বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে ডোপ টেস্ট স্ক্রিনিংয়ে তার শরীরে অ্যামফেটামিন (এএমপি) পাওয়া যায়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী 'অসদাচরণের' অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সিপাইকে তিরস্কার
সিপাই হাবিবুর রহমান চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের অধীন দর্শনা ডিস্টিলারিতে কর্মরত ছিলেন।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, তিনি একজন পরিদর্শকের অবৈধ নির্দেশে অগ্রিম স্বাক্ষর করা পরিবহন পাস পূরণ করেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উপপরিচালককে জানাননি।
তার বিরুদ্ধে 'অসদাচরণের' অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। বিধি ৪(২)(ক) অনুযায়ী তাকে 'তিরস্কার' লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শকের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত
পরিদর্শক শাহজালাল খান গোপালগঞ্জে কর্মরত থাকলেও অপরাধের সময় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ডিস্টিলারির অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি গত ১৮ ও ১৯ মে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন এবং অনুমোদন ছাড়াই হাজিরা রেজিস্টার সংশোধনের চেষ্টা করেন। এ ছাড়া তিনি এক অধস্তনকে তার অগ্রিম স্বাক্ষরিত পরিবহণ পাস পূরণের অবৈধ নির্দেশ দেন।
বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় ভবিষ্যতে বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গণনা করা হবে না।