EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

কোটা পেয়েও অনুমোদন মিলছে না পরবর্তী কার্যক্রমের, অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

কোটা পেয়েও অনুমোদন মিলছে না পরবর্তী কার্যক্রমের, অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া যাত্রা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দেশটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় সাড়ে ২ লাখ কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মীর এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। কয়েকজনের অ্যাটেস্টেশন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে কোটা বরাদ্দ ও এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের প্রক্রিয়া এগোলেও কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউ ও প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও নির্দেশনা না পাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া আটকে আছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস—বায়রার সদস্য ও আর্থ স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কোটা বরাদ্দ ও এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পরবর্তী কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ফলে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইন্টারভিউসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রায় আড়াই লাখ কর্মীর কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কর্মীর এম্বাসি অ্যাটেস্টেশনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। কয়েকজনের অ্যাটেস্টেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নির্দেশনা না পাওয়ায় পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কর্মী নির্বাচনের অপেক্ষা

বরাদ্দ পাওয়া কর্মীদের দ্রুত নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত তালিকায় ১৪টি মেডিকেল সেন্টার রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সময়মতো কর্মী না গেলে বাজার হারানোর শঙ্কা

মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা বরাদ্দ ও ই-অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও পরবর্তী কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় দেশটির নিয়োগকর্তা ও রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

বায়রার সদস্য ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, সময়মতো বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে কিছু নিয়োগকর্তা অন্য দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এতে বাংলাদেশ কর্মসংস্থানের সুযোগ ও রেমিট্যান্স হারাতে পারে।

তিনি বরাদ্দকৃত কোটা অনুযায়ী দ্রুত কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে যেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা অন্য দেশের দিকে চলে না যান, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন