প্রতিদিন যানবাহন চলাচল ৩০ থেকে ৩২ হাজার
ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা, ৬ লেনে উন্নীতের দাবি
রাসেল হোসেন, বরিশাল
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। তবে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার মহাসড়ক এখনো প্রশস্ত হয়নি। সরু সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক ও অবৈধ থ্রি-হুইলারের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় দুজনের প্রাণহানি ঘটছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু চালুর আগে বরিশালের ভূরঘাটা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৯ হাজার যানবাহন চলাচল করত। সেতু চালুর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজারে। ঈদ বা উৎসবের ছুটিতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২১ সালে ৫৮৭, ২০২২ সালে ৫১১, ২০২৩ সালে ৪১১, ২০২৪ সালে ৪৫৭ এবং ২০২৫ সালে ৪২১ জন নিহত হন।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বরিশাল বিভাগের দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রায় সাড়ে তিন-চতুর্থাংশই ভাঙা থেকে কুয়াকাটা মহাসড়কের বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার। মাদারীপুর থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটি মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত হওয়ায় দ্রুতগতির যানবাহন বিপজ্জনক বাঁক ও বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানান তিনি।
স্থানীয় চালকদের ভাষ্য, ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। গৌরনদী, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ ও আমতলীর বিভিন্ন অংশে সড়ক সরু হওয়ায় ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া মহাসড়ক ঘেঁষে থাকা অন্তত ৫০টি বাজারও দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে জানান চালকরা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করতে ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। কয়েক দফায় ব্যয় বাড়িয়ে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৫ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা ধরা হলেও প্রকল্পটির অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। ফলে আবারও সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, সরু সড়কের পাশাপাশি অবৈধ যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব যানবাহনের অনেক চালকের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নেই।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আইনজীবী নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত সরু ও অনুন্নত। দুর্ঘটনা কমাতে দ্রুত এটিকে ছয় লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।