শ্রমঘন শিল্পের বিকাশে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: শিল্পমন্ত্রী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের বিকাশকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, কম মূলধন বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে—এমন শিল্পখাতকে আগামী দিনে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও নিয়োগপত্র বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। আগামী দিনে সরকার যেসব শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এসব খাত অন্যতম।
তিনি বলেন, দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বাড়বে। সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণে বিটাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া এ ধরনের কর্মসূচির বড় অর্জন। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পর সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।
আগামী দিনে এ প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো হবে জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।
বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সব পর্যায় ও পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়নের কথা জানান মন্ত্রী।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ তাঁদের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে পেশাগত জীবনে কাজে লাগানোর দায়িত্ব তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশিক্ষণ ও অব্যাহত শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের হালনাগাদ রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
বিটাকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও নিয়োগপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া ৭২২ জনের মধ্যে ৬৪২ জনকে দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।