দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা অশনিসংকেত: টিআইবি
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এসব ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি দলের আত্মশুদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখল; কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে টিআইবি।
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; বরং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত। এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির পাশাপাশি সারাদেশে দলের আত্মশুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, প্রায় অর্ধশত বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দিচ্ছে, সেটিও ভাবার বিষয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।
তার ভাষ্য, ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নিচ্ছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির অভিযোগের পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি আরও স্বাভাবিকতা পাচ্ছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত।
কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাকে একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব ঘটনা সরকারের ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় সংঘটিত প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।