মাটিতে পুঁতে রাখা কোটি টাকার কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, মা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৪
ডেইলি সান রিপোর্ট, ফরিদপুর
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ছবি: ফরিদপুরের শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরি যাওয়া মূর্তি ও অলংকার উদ্ধার করে পুলিশ। সংগৃহীত
রান্নাঘরের মাটির নিচে লুকানো ছিল অলংকার আর পিতলের প্রতিমা। আর একটি বাড়ির পেছনে পুঁতে রাখা হয়েছিল শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। ফরিদপুরের শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে এসব মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চুরির ঘটনার ৬ দিনের মধ্যে কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ চুরির মালামাল উদ্ধার হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুখ্যাত চোরচক্রের ৪ সদস্যকে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন - আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান। আতিয়ারের বিরুদ্ধে চুরি করা স্বর্ণালংকার ক্রয় ও গলানোর অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে মন্দির তালাবদ্ধ করে যান সেবায়েত কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে চুরির ব্যাপারে জানা যায়।
এজাহার অনুযায়ী, তালা কেটে চুরি করা হয়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা, মূর্তির গায়ের ৫ ভরি স্বর্ণ। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা। ৩০ ভরি রূপার অলংকার ও পিতলের প্রতিমা।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শুরুতে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের মূর্তি, সাজেদা বেগমের রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে অলংকার ও পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
এরপর উদ্ধার হয় জুয়েলারি দোকান থেকে অলংকার গলিয়ে তৈরি করা ৮ আনা স্বর্ণ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ ১০টি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে ৮টির বেশি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত সব আলামত জব্দ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।