EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

মীর শাহে আলম

কক্সবাজারের উন্নয়নে আদালতের রায়ের অপব্যবহার করছে একটি সংস্থা

ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম

কক্সবাজারের উন্নয়নে আদালতের রায়ের অপব্যবহার করছে একটি সংস্থা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আদালতের রায় একটি সংস্থা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, আইনি বাধার কারণে কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। এটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলছে।

মীর শাহে আলম বলেন, কক্সবাজারকে সুন্দর পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় একটি সংস্থা উচ্চ আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ায় বারবার কাজ আটকে যাচ্ছে। 

তিনি জানান, সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীরের হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে কাজ শুরুর ঠিক আগে একটি সংস্থা উচ্চ আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সৈকতের পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষা এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে ‘বেলা’ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়। মামলার শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণেও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে সমস্যা হচ্ছে। সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে শুধু একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এলেও তাঁদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ পাওয়া যায় না। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

এর আগে শনিবার সকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন