কক্সবাজার সৈকতে চলছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা
ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
ছবি: বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা। সংগৃহীত
প্রতি বছরের মতো এবারও পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা।
‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে এবারের পর্যটন দিবসে তিনদিন ব্যাপী মেলা শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শুরু হয়েছিল। মেলা শেষ হবে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর)। সাগরের নির্মল হাওয়ায় বেলাভূমিতে বিচরণের পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে সুরের মূর্ছনায় হারিয়েছেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিনদিন ব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবসের উৎসবে চলছে ফোক সংগীত, ফায়ার শো, ব্যান্ড সংগীত, মিউজিক্যাল নাইট, বে অফ বেঙ্গল ম্যারাথন, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, রাখাইন নৃত্য ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। শতাধিক স্টল নিয়ে পর্যটন উৎসবে থাকছে খাদ্য উৎসব, লাইভ কুকিং শো, আচার, শুঁটকি, পিঠাসহ হরেক রকমের আয়োজন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নান বলেন, পর্যটন দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, কক্সবাজার এ খাতের প্রধান কেন্দ্র। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, পাহাড় ও বৈচিত্রময় সংস্কৃতি কক্সবাজারকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি অনন্য গন্তব্যে পরিণত করেছে। পর্যটন সেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা আমাদের অঙ্গীকার।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবসে এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা। পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত হোটেল-মোটেল, ট্যুর অপারেটর, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজারকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের লক্ষ্য।
পর্যটনবান্ধব পরিবেশ ও কক্সবাজারের সুনাম রক্ষায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন জেলা প্রশাসক।
কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান বলেন, এবারের পর্যটন দিবসের আগের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কক্সবাজারে ভরপুর পর্যটক উপস্থিতি হয়। সেই চিন্তা মাথায় রেখেই শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটন মেলার আয়োজন শুরু হয়।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে সর্বশেষ জমজমাট ভাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হয়েছিল। গত দুই বছর তেমন কোনো আয়োজন ছিল না বললেই চলে। কিন্তু এবার পুরোনো আমেজেই বর্ণাঢ্য কলেবরে পর্যটন দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দিবসের আয়োজন শুক্রবার শুরু হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন সম্পন্ন করা হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান সময়ে বিশ্বে সম্ভাবনাময় শিল্প পর্যটন। পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকতকে ঘিরে দেশের পর্যটনের রাজধানী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে কক্সবাজার। এক দশক আগেও ছুটির দিন ও শীত মৌসুমে কক্সবাজার পর্যটকে ভরপুর থাকতো। কিন্তু সম্প্রতি বছরজুড়েই পর্যটকের আনাগোনা থাকছে এখানে।
সেই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ্বময় করতে কাজ করছে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এবারো বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলার আয়োজন।
হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, তিন দিনের পর্যটন মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেলেগুলোতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় চলছে। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, বাইক, স্পিডবোটসহ নানা অনুষঙ্গেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
মেলাকালীন এবার কক্সবাজারে ৩-৪ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের পর্যটন, সংস্কৃতি ও স্থানীয় ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।