EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ফ্যাসিবাদের ফেরা ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন: রিজভী

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

ফ্যাসিবাদের ফেরা ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন: রিজভী

ছবি: জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সংগৃহীত

অ অ

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও বক্তব্যে যতই মতপার্থক্য থাকুক না কেন, একটি জায়গায় যোগসূত্র রেখে কাজ করতে হবে। তা না হলে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না।

বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি পালন করবে, কথা বলবে-বলুক, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ফ্যাসিবাদের যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে, গণতন্ত্র তো যাবেই, রাষ্ট্রও থাকবে না।’

রিজভী বলেন, আগামীতে পাঁচ বছর পর যে-ই ক্ষমতায় আসুক, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে।

‘বাংলাদেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে কোনো লাভ হবে না। কারণ এটি কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার নয়, এটি নির্বাচিত সরকার।’- বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, এটি শেখ হাসিনার মতো ‘আমি আর আমার’ নির্বাচনের সরকার নয়, কিংবা ‘মিডনাইট নির্বাচনের’ সরকারও নয়। এটি জনগণের আস্থা ও গণঅভ্যুত্থানের সরকার।

তিনি বলেন, এ কারণেই চক্রান্ত, বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং বাড়িঘরে আগুন দিয়ে কুৎসিত পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করছে, বিভিন্ন কথা বলছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। কারণ গণতন্ত্রে সরকারের সমালোচনা ও বিরোধী মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘এই অধিকার চর্চার সুযোগ শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন এবং তারেক রহমান সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে। সম্প্রতি দুটি লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার আমলে এ ধরনের পরিস্থিতি ছিল ‘অবিশ্বাস্য’। সে সময় বিরোধী দলের রোডমার্চ ও লংমার্চে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হতো এবং সাধারণ মানুষও হামলার শিকার হতেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে গণতন্ত্রের অর্থ যা ইচ্ছা তা বলা নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে রেটোরিক থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।

শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও অপকর্ম আড়াল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন।

সাংবাদিক নেতা  রুহুল আমিন গাজী একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজী গণতন্ত্র ও ইসলামকে পছন্দ করতেন এবং আওয়ামী লীগের কথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেন। তাই শেখ হাসিনার কাছে তা গ্রাহ্য হয়নি। নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও রুহুল আমিন গাজীকে চিকিৎসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যে ধরনের বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে, তা তাদের ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তবে জীবদ্দশায় শেখ হাসিনার পতন দেখার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য একটি সান্ত্বনার বিষয় ছিল বলে মনে করেন রিজভী।

বিএনপির এ প্রবীণ নেতা বলেন, শেখ হাসিনার কাছে কে তার পক্ষে আর কে বিপক্ষে-এটাই ছিল মূল মানদণ্ড। বিপক্ষে গেলেই তাকে মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থী আখ্যা দেওয়া হতো। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বড় বড় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হাসিনা নিরন্তর অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ সময়ে অনেক সাংবাদিক ফ্যাসিস্টের পক্ষে কাজ করেছেন। কিন্তু রুহুল আমিন গাজী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে আজীবন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

দেশে যাতে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।

আরও পড়ুন