আইন বদলালেও গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় বাধা মানসিকতা
ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রমিক হিসেবে মর্যাদার ঘাটতি এখনো বহু গৃহকর্মীর জীবনের বাস্তবতা
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ছবি: ডেইলি সান
গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় আইন ও নীতিগত অগ্রগতি হলেও তাদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বড় বাধা। ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রমিক হিসেবে মর্যাদার ঘাটতি এখনো বহু গৃহকর্মীর জীবনের বাস্তবতা। বক্তারা বলেন, আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার, নিয়োগকর্তা ও সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আলোকিতে বাংলাদেশে অক্সফ্যামের আয়োজনে ‘হ্যান্ডস দ্যাট হোল্ড হোমস: রাইটস, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ডমেস্টিক ওয়ার্কারস’ শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কানাডা সরকারের সহায়তায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত ‘সুনীতি—নারী গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা’ প্রকল্পের সাত বছরের অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও অধিকার সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা এখনো গৃহকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সবকিছু পরিবর্তন করলাম, কিন্তু মানসিকতা পরিবর্তন না করলে হবে না। আমার গৃহকর্মীকে আমি কেন আমার সহকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারি না? তিনি গৃহকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও তা এখনো আংশিক। ‘সুনীতি’ প্রকল্পের বড় অর্জন গৃহকর্মীদের সংগঠিত করা ও নেতৃত্ব শক্তিশালী করা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় গৃহকর্মীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে এবং মজুরি নিয়ে দর-কষাকষির সক্ষমতা ২৩ শতাংশ থেকে ৬১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। লিখিত চুক্তির হারও ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৮ শতাংশ হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ গৃহকর্মী বেশি মজুরি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং তাঁদের মাসিক আয় গড়ে ৮৫০ টাকা বেড়েছে।
-6aae23d4e220e.jpg)