দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে সরকার: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে
ডেইলি সান রিপোর্ট, বগুড়া
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সরকার দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বুধবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সংশ্লিষ্ট এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সব ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক প্রতিরোধ ও শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছেন। রাষ্ট্রীয় অপচয় বন্ধে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশে গিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই বর্তমানে পদায়ন-পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি দপ্তরের কাজের ধীরগতি দূর করে শীঘ্রই গতি বাড়াতে হবে। নির্বাচিত সরকারের জনকল্যাণমুখী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও বিধিগতভাবে বাধ্য। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ আসার সুযোগ নেই।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মজবুত করেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেন এবং পোশাক খাত, পল্লী বিদ্যুৎ ও জনশক্তি রপ্তানির সূচনা করেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়া অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে তার অধীনে চাকরি করার সুবাদে দেখেছি শহীদ জিয়ার মতো তিনিও ছিলেন এক অনন্য স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ। যিনি রাষ্ট্রের এক টাকা অপচয়ও সহ্য করতেন না। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও সঠিক নীতি গ্রহণের ফলে আশপাশের দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলেও আমাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল রয়েছে। অতিরিক্ত নোট না ছাপিয়ে সম্পদ তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একই ধরনের ব্যাগ, পোশাক ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনাকারীদের সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়াকে মডেল জেলা ও ‘ইকোনমিক হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, আজিজুল হক কলেজের মানোন্নয়ন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনআইসিইউ সুবিধাসহ নতুন নতুন সেবা চালু করা হচ্ছে। বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ চলছে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় করা হয়েছে এবং একটি বিশেষায়িত (ইউনিক) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।