সৌদি আরবের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের আশা বাংলাদেশের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ এএম
ছবি: রাজধানীর হোটেল শেরাটনে সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, সংগৃহীত
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে ভবিষ্যতে তা কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটির সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো গভীর ধর্মীয় বন্ধন, ঐতিহাসিক যোগসূত্র, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জোরালো অর্থনৈতিক সহযোগিতা। সময়ের পরিক্রমায় বাণিজ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে এই অংশীদারত্ব ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হয়েছে।
সৌদি আরব সবসময়ই বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সৌদিতে বসবাস ও কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বেশি প্রগাঢ় ও অর্থপূর্ণ করে তুলেছেন।
প্রবাসীদের এই অনন্য অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিবিড় যত্ন নেওয়ার জন্য সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে অত্যন্ত মর্যাদা দেয়। জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশ দীর্ঘকাল ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত প্রশমন এবং বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের বিশাল পুঁজি ও উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতার সাথে যদি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাজার, উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষ জনশক্তিকে সমন্বিত করা যায়, তবে দুই দেশের জন্যই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে। বিশেষ করে জ্বালানি, বন্দর, অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং লজিস্টিকস খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় সৌদি আরবের দেওয়া উন্নয়ন সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ অংশীদারত্বে রূপ দিতে বাংলাদেশ সবসময়ই সৌদি আরবের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। সবশেষে তিনি সৌদি আরবের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সার্বিক শান্তি, স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।