৪ দোকানের ২২ ভরি স্বর্ণ নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও
ডেইলি সান রিপোর্ট, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
ছবি: পাল শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী রণজিত পালের বিরুদ্ধে স্বর্ণ নিয়ে উধাওয়ের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে ৪ জুয়েলারি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে রণজিত পাল নামে এক ব্যবসায়ী উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখেই নিখোঁজ হন ওই ব্যবসায়ী।
রণজিত পাল লক্ষ্মীপুর পৌর বাজারের স্বর্ণকার সড়কের পাল শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী। তিনি শহরের শাঁখারীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।
সন্ধ্যা পর্যন্ত রণজিতের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার ভাড়া বাসাতেও পাওয়া যায়নি কাউকে।
ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রণজিত পাল গ্রাহকদের দেখানোর কথা বলে ৪টি জুয়েলারি দোকান থেকে স্বর্ণালংকার নেন। পরে ওই স্বর্ণ ফেরত না দিয়ে তিনি গা ঢাকা দেন। তার নিজের দোকানটি খোলা থাকলেও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রণজিত পাল প্রায় ৩০ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর বাজারে স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ছিল।
এক ব্যবসায়ী অন্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গহনা এনে সম্ভাব্য ক্রেতাদের দেখানো এবং বিক্রি শেষে তা ফেরত দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। সেই সুযোগেই রণজিত বিভিন্ন দোকান থেকে স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন- তমা শিল্পালয়ের পলাশ কুরী, বণিক শিল্পালয়ের সাগর বণিক, পুনম শিল্পালয়ের ঝুটন কুরী ও শিবানী শিল্পালয়ের অসীম কর। এঘটনায় তারা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর শাখার সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, চার ব্যবসায়ীর স্বর্ণালংকার নিয়ে একজন ব্যবসায়ী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার বাসায় গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিষয়টি থানায় জানিয়েছেন। তারা পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নিতে তাদের বলা হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রণজিত পালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।