EN ☀️
×

Follow Us

বাংলাদেশ

তিন সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা: নেপথ্যে পিতার মাদকাসক্ততা ও পারিবারিক বিরোধ

ডেইলি সান রিপোর্ট, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

তিন সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা: নেপথ্যে পিতার মাদকাসক্ততা ও পারিবারিক বিরোধ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সুনামগঞ্জে তিন শিশু সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যার নেপথ্যে পিতা সরাফত আলীর মাদকাসক্ততা ও প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে  বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী ও পারিবারিক সূত্রে এ অভিযোগগুলো উঠে এসেছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন রজনীলাইন গ্রামের সুনাফর আলীর ছেলে সরাফত আলী (৩৫)। সরাফতের বাড়িতেই ঘটনাটি ঘটেছে।  ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।

সরাফত আলীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিন পূর্বে সরাফত আলীর স্ত্রী ও সন্তানদের মা ফাতেমা বেগম জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। এর পূর্বেও তিনি প্রবাসে গিয়েছিলেন। দুই বছর সেখানে থাকাকালীন স্ত্রী ফাতেমা বেগমের স্বামীর নামে একাউন্ট করে ছিলো।

সেখানে টাকা পাঠালে তা একমাত্র সরাফতই উঠাতে পারতো। কিন্তু টাকা উঠিয়ে মাদক ও অনলাইন জুয়া খেলে টাকা নষ্ট করতো বলে অভিযোগ পরিবারের।

এবার সৌদি আরব যাওয়ার আগে সরাফতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর একাউন্ট সরাফতের নামে না করে নিজের নামে একাউন্ট করে দ্বিতীয় বারের মত আবারও সৌদি আরব যান। আর সংসারসহ সন্তানদের খরচের জন্য বিকাশে টাকা পাঠানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এর জের ধরেই সরাফত তিন শিশু সন্তানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করে বলে প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরা অভিযোগ করে। সে মাদকাসক্ত ছিলো বলেও অভিযোগ করে স্থানীয়রা।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, স্ত্রী ফাতেমা বেগম বিদেশ যাওয়ার পর ঝগড়া হয় সরাফতের সঙ্গে। আর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ছোট ছেলে তামিম (২) কে বাড়ির পাশে পানিতে ফেলে দিয়েছিলো সরাফত। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে। 

নিহত তিন শিশুর সম্পর্কে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে দাদি জহুরা বেগম জানান, শুক্রবার  (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিন সন্তানকে নিয়ে বড়ছড়া বাজারে যায় এবং মোরগ ও পোলাওর চাল কিনে নিয়ে আসে। রাতে রান্না করে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে খায়। এরপরে তারা ঘুমিয়ে যায়।

রাত ১ টার দিকে কোমন পানীয় লিচুর সাথে বিষ মিশিয়ে তিন শিশুকে পান করিয়ে নিজেও পান করে। পরে সরাফত নিজেই ময়মনসিংহ থাকা ফুফু সরুফাকে ফোনে জানায় সে তার সন্তানদের বিষপান করিয়েছে ও নিজেও বিষপান করেছে। পরে সরুফা তার ভাতিজা রহম আলীকে জানালে তিনি সরাফতের বাড়িতে যায়। এসময় সরাফতের বড় মেয়েকে বিষ পান করানোর পর চিৎকার দিলে বাড়ির আশেপাশে লোকজন আসে। পরে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।

এরপর পরেই আত্মীয় স্বজনরা তিন শিশুসহ সরাফত কে নিয়ে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার জন্য গেলে পাতারগাও গিয়ে নৌকা না পাওয়ায় বাদাঘাট বাজারে লাইফ কেয়ার নিয়ে যায়। সেখানে থাকা চিকিৎসকরা তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করে। 

গুরুতর আহত অবস্থায় সরাফতকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিবর্তিতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান এই ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। পূর্বে এমন ঘটনা ঘটেনি। সকালে ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টদের জানাই। পরে দুপুরে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি।

তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ জানান, বিষ পানে নিহত তিন শিশুর মৃত্যু খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সসহ নিহত শিশুদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এরপর আমরা মূল কারন উদঘাটনের চেষ্টা করছি। 

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে জমিতে কীটনাশক মারার বিষের খালি বোতল ও কোমল পানীয় লিচুসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তিন শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন